Tuesday, December 21, 2021

রোগালয়

 

সোভিয়েত ইউনিয়নে আর এখন রাশিয়ায় ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে শিশু অনেক কিছুর সাথে একটা ডাইরি পায়। না, সেটা সেই ডাইরি নয় যেখানে বাবা মা অতি যত্ন সহকারে জন্মকালে শিশুর ওজন, উচ্চতা, মাতৃসদন থেকে দেওয়া বিভিন্ন আট্রিবুট, কবে প্রথম দাঁত উঠল, কবে প্রথম পড়ে গেল ইত্যাদি সব টুকিটাকি অতি যত্ন সহকারে লিখে রাখে। এ ডাইরি অন্য ডাইরি। এটা ইতিহাস। না না, শিশুর ইতিহাস য়, তার রোগের ইতিহাস। কবে কোন টিকা দেওয়া হল, কখনও জ্বর হয়েছিল কিনা, বা সর্দিকাশি, খাদ্যে এলার্জি – এক কথায় শিশুর সাথে সাথে তার শরীরে যেসব রোগ এসে বাসা বাঁধে সেটাই এখানে লেখা হয়। তাই এর নাম রোগের ইতিহাস। প্রথম বছর দুই প্রতি মাসে শিশুকে নিয়ে কম করে হলে একবার পলিক্লিনিকে হাজিরা দিতে হয়, মাঝে মধ্যে ডাক্তার নিজেই চলে আসেন। এক কথায় শিশু যেমন রোগের কাছ থেকে পালাতে পারে না, অসুখ বিসুখ আর সেই সাথে শিশু নিজেও ডাক্তারের হাতে জিম্মি থাকে। এরপর সে যখন কিন্ডার গারটেন বা স্কুলে যায় – সেখান থেকেই ডাক্তার তার খবরাখবর নেয়। আর অসুস্থ হয়ে বাসায় থাকলে তাকে ডাক্তার দেখানোর দায়িত্ব বাবা মার কাঁধে বর্তায়।

আমরা যারা বাংলাদেশের গ্রামে বড় হয়েছি তাদের এসব ঝামেলা ছিল না, অসুখ হলেও যেখানে সবাই ডাক্তার ডাকে না সেখানে শখ করে কে আর ডাক্তার ডাকবে। তবে সোভিয়েত ইউনিয়নে পড়তে আসার পর আমাদের রাখা হল কারেন্টেইনে, নিয়ে যাওয়া হল পলিক্লিনিকে বিভিন্ন টেস্টের জন্য আর তখনই আমাদের রোগের ইতিহাস (যদিও খণ্ডিত) লেখা শুরু হল।

আমি যখন মস্কো আসি আমার ওজন তখন মাত্র ৪৩ কেজি। সবাই নিশ্চিত ছিল যে বাংলাদেশ থেকে আসা ১৯ জনের মধ্যে যদি একজনকেও হাসপাতালের ভাত খেতে হয় সেটা হব আমি। কিন্তু দেখা গেল রোগা বিধায় রোগেরা আমাকে দেখতেই পায়নি, কেমনে কেমনে পাশ কাটিয়ে চলে গেছে। আমি ওদের বলতাম, দেখ, রোগেরাও মানুষ, ওরাও আমাদের মতই তেল ঝাল খেতে পছন্দ করে। আমার এই হাড্ডিতে পা ঝুলিয়ে বসে থেকে ওদের কী লাভ? তাই হাসপাতালের ভাত খেতে আমাকে আরও প্রায় ৩৭ বছর অপেক্ষা করতে হবে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রথম আমি হাসপাতালে যাব, যদিও ছিঁচকে রোগ সব সময়ই আমার পাশে পাশে ঘুরে বেড়িয়েছে। এই সর্দি তো এই কাশি, এই প্রেসার তো এই অন্য কিছুএক কথায় ওরা আমাকে সেই ছোটবেলা থেকেই ভালোবেসে ফেলেছে।

আমার সাথে রোগের বরাবরই বন্ধুত্ব। অন্যদের সাথে খেলতে গিয়ে পেরে না উঠলে আমার ঘাড়ে চেপে বসে। আমি দয়ালু মানুষ, নিজের শরীরে ওদের থাকার ব্যবস্থা করে দিই। এভাবেই ওদের সাথে আমার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চলে বছরের পর বছর। সব সময়ই যে সব কিছু শান্তিপূর্ণ ভাবে ঘটে তা নয়। মাঝে মধ্যে ওরাও অক্টোবর বিপ্লব বাঁধিয়ে দেয় আবার শীর্ণ দেহে, কখনও বা আবার কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ। যুদ্ধ হবে না বিপ্লব হবে সেটা অবশ্য নির্ভর করে আমার শারীরিক সামর্থ্যের উপর।

যেহেতু আমি পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র তাই অসুখ বিসুখকে খুব একটা ঘাটাই না, অবস্থা বেগতিক দেখলে ওদের ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দিই যত্নআত্তির জন্য যেমন করে ছোটবেলায় আমাদের মামাবাড়ি পাঠানো হত। শত হলেও আপন রোগ বলে কথা। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ডাক্তারদের আদরে সোহাগে থাকে বলে ওদের ইতিহাসের কলেবর বেড়েই চলে। তাই মাঝে মধ্যে বন্ধুরা যখন জিজ্ঞেস করে
-
তুমি এমন স্লীম কেন?
-
আমার রোগের ইতিহাস অতিকায় বলে।
-
মানে?
-
কেন, অস্কার ওয়াইল্ডের পোরট্রেট অফ ডারেইন গ্রে পড় নাই? মনে আছে, সেখানে বেইসিল নামে এক আর্টিস্ট ডারেইনের একটা ফুল সাইজ ছবি এঁকে দিয়েছিল। এরপর সময়ের সাথে সাথে ডারেইন যখন বৃদ্ধ হল, অসুখ বিসুখে ভুগতে শুরু করল, দেখা গেল ওর সব রোগ, সব বালাই সেই পোরট্রেট নিজে নিয়ে নিয়েছে। ফলে ডারেইন সেই আগের মতই যৌবনাদীপ্ত থেকে গেছে, যদিও ওর পরট্রেট অসুখ বিসুখে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে লড়াই করতে শুরু করেছে। আমারও সেই অবস্থা। কলেবর বাড়তে বাড়তে আমার রোগের ইতিহাস মহাভারতের আকার ধারণ করেছে আর আমি সেই আগের মতই রয়ে গেছি।  

আসলে মুখে যতই হাসিঠাট্টা করি না কেন, অসুখ অসুখই। ওরা নিজেরা মনে আনন্দে আমার শরীরে ঘুরে বেড়ালেও আমার তো কিছু অসুবিধা হয়ই। এত লোকের খাবার যোগানো, সবাইকে সময় মত ঘুম পাড়ানো – সে কি চাট্টিখানি কথা? তাই মাঝে মধ্যে ওদের সর্বগ্রাসী ক্ষুধা কমানোর জন্য আমি ডাক্তারদের দ্বারস্থ হই। সেটা ইদানীং এত ঘন ঘন যে ডাক্তার, বিশেষ করে নার্সরা অনেক দিন আমাকে না দেখলে প্রমাদ গুণে, জিজ্ঞেস করে এতদিন কোথায় ছিলাম। ভাব খানা এই, এই হাসপাতাল (আমি ওখানে থাকি না, বছরে দু বার ওখানে গিয়ে বিভিন্ন চিকিৎসা নিই) আমার বাড়ি আর বাড়ি – এটা মামাবাড়ি, যেখানে আমি যাই একটু হাওয়া বদলাতে। সেখানে কত লোকের সাথে দেখা হয়, পরিচয় হয়। এক সময় হাসপাতালকে খুব ভয় করতাম, এখন আর সেটা হয় না। ওখানে মনে হয় কমবেশি সাম্যবাদী পরিবেশ, সবাই পরস্পরের উপর নির্ভরশীল।

গত বছর ডিসেম্বরের শেষে জীবনে প্রথম বারের মত হাসপাতালে থাকি। জরুরি এঞ্জিওগ্রাম করতে হয়েছিল, তাই দুদিন ওখানে থাকতে হয়েছিল। তখন করোনার প্রকোপ চলছে,  হাসপাতালে কেউ একটা যেতে চায় না। আমি যে ওয়ার্ডে ছিলাম, সেখানে মোট পাঁচ জন। জনা দুয়েক আশির কাছাকাছি, আমরা তিনজন পঞ্চাশ থেকে ষাটের মধ্যে। সারা দিন বই পড়া ছাড়া কিছুই করার নেই। মানে সকাল থেকে রুটিন করে খাওয়া, ইঞ্জেকশন নেওয়া এসব ছাড়া। করোনা বলেই খাবার খেতাম ওয়ার্ডে, যাতে যত কম সম্ভব অন্যদের সাথে মেলামেশা হয়। এছাড়া বিভিন্ন গল্পগুজব করতাম। ওরা যখন জানতো আমি কসমোলজির উপর কাজ করছি, বিভিন্ন প্রশ্ন করত, যদি প্রথমে আমার ইন্সটিটিউটের নাম শুনে ভাবত আমি হয়তো আনবিক বোমা নিয়ে কাজ করছি। একদিন আমার পাশের বেডের বৃদ্ধের কাঁপুনি দিয়ে সে কী জ্বর। কী করা? নিজেদের কম্বলগুলো দিয়ে তাকে ঢেকে ডাক্তার ডাকলাম। মনেই হল না যে এটা করোনার পূর্বাভাস হতে পারে। আমার বিশ্বাস, যদি বাইরে থাকতাম আর আশেপাশে কেউ এমন করত, এত সহজে তার কাছে যেতাম না। আসলে বিপদ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, পরস্পরের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে শেখায়। আমরা কখনও কখনও সমুদ্রে বা পাহাড়ে বেড়াতে যাই। সাগর তীরে অনেক লোক থাকে। তবে পাহাড়ে সবাইকে দেখেছি একে অন্যের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে, কোথায় ফোয়ারা আছে সেটা বলে, রাস্তা দেখিয়ে দেয়। আসলে হাসপাতাল পাহাড় না হলেও সেখানে মানুষ বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়। তাই মনে হয় এমনটা ঘটে।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে কয়েকদিনের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হলাম। জানিনা সেই বৃদ্ধের থেকেই  সংক্রামিত হয়েছিলাম কি না, অথবা আদৌ তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না। এবার আমরা গেলাম করোনা চিকিৎসায়রেড জোনে। আট দিন ছিলাম। ওখানে আমরা পঞ্চাশ জনের উপরে ছিলাম। যেহেতু সবাই করানার রোগী তাই মেলামেশায় বাধানিষেধ ছিল না। আমাদের পাশের রুমেই ছিলেন এক ভদ্রলোক, মনে হয় সত্তরের কোটা অনেক আগেই পেরিয়ে এসেছেন। প্রায়ই সিস্টারদের ডাকতেন। তবে এত রোগীদের দেখভাল করতে গিয়ে সিস্টাররা সাথে সাথে আসতে পারত না। আমি নিজেই একাধিক বার তাঁকে ডায়াপার পরতে সাহায্য করেছি। সত্য বলতে কী জীবনে কল্পনা করতে পারিনি আমি এটা করব। হ্যাঁ, ওখানে আমরা সবাই ছিলাম এক নৌকায়জীবন মরণের মাঝে যে অশান্ত সমুদ্রসেখানে এলোপাথাড়ি ভাবে বয়ে চলা এক নৌকায়। আমরা ওখানে থাকতে থাকতেই ভদ্রলোক মারা গেলেন। পাশের রুমেই। কিছুক্ষণ আগেও আমি তাঁকে সাহায্য করেছিলাম। জীবনে এই প্রথম এত কাছ থেকে মৃত্যু দেখলাম। না, প্রথম নয়, দ্বিতীয় বার। এর আগে ২০১৩ সালে মস্কো ফেরার বাসের অপেক্ষা করতে করতে এক লোককে মরে যেতে দেখলাম। হার্ট এটাক করেছিল। অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারল না ইমারজেন্সির ডাক্তাররা। আসলে হাসপাতালে মৃত্যুটা ততটা অচেনা মনে হয় না, যতটা অন্য কোথাও। ভদ্রলোক মারা গেলেন, আমাদের জীবন ঠিকই চলতে লাগল রুটিন মাফিক।

যাহোক, আমাকে প্রায়ই ক্লিনিকে যেতে হয় বিভিন্ন সমস্যায়। এছাড়া রাশিয়ায় প্রতি বছর আমাদের ওভার অল হেলথ চেক আপ করাতে হয় কাজের থেকে। গত শক্রবার সেটাই করতে গিয়েছিলাম। অবশ্য গত দু সপ্তাহে এটা দ্বিতীয় বারের মত। যেহেতু আমি দুটো আলাদা ইনস্টিটিউটে কাজ করি, তাই দুই জায়গাতেই রিপোর্ট করতে হয়। হয়তো একটা রিপোর্ট দু জায়গাতেই দেওয়া যায়, তবে ওসব ঝামেলা এড়াতে আমি দু জায়গাতেই চেক আপ করাই। দ্বিতীয়টা অনেকটা  কন্ট্রোল শ্যুটের মত। যেহেতু অনেকগুলো ডাক্তার দেখাতে হয় আর এক সাথে অনেক লোক যায় তাই ভিড় হয়। ফলে সবাই লাইনে জায়গা রেখে অন্য ডাক্তারের কাছে চলে যায়। এভাবে চলে চেয়ার খেলা। আমিও তাই করি। ব্লাড দেবার লাইনে দাঁড়িয়ে মনে হল জেনারেল ফিজিশিয়ানের ওখানেও লাইনে জায়গা রাখা দরকার। এর মধ্যে দাড়িওয়ালা এক লোক এসে জিজ্ঞেস করল
-
লাস্ট ম্যান কে?
কোন উত্তর নেই। কারণ এসব জায়গায় কেউ শেষ হতে চায় না, সবাই প্রথম হতে চায়। তখন আমি এগিয়ে এসে বললাম
-
আমি আপনার পেছনে দাঁড়াব।
-
না না, আমি আপনার পেছনে।

কী আর করা। এক দিকে এক জন লোকের আগে দাঁড়ানো গেল। কিন্তু সমস্যা হল আমার আগে কে সেটা আমি জানি না। কতবার ভেবেছি লাইনে দাঁড়িয়ে যার পেছনে দাড়াই তার একটা ছবি তুলে নেব, কিন্তু সাহস করে কাজটা করা হয়নি। যাহোক, বিভিন্ন ডাক্তার দেখিয়ে এবার এলাম জেনারেল ফিজিশিয়ানের কাছে। সেই ভদ্রলোক আমাকে দেখে হাতে চাঁদ পেলেন।

 - আমাদের সময় হয়ে এসেছে। আপনি কার পেছনে?

দরোজার সামনে এক মেয়েকে দেখিয়ে বললাম, এর পেছনে।
 -
না, আমার পেছনে এই মহিলা। আপনি ভুল করছেন।
 -
দেখুন, আমি এখানে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি। তবে আপনাদের যদি অসুবিধা হয় আমি নতুন করে দাঁড়াতেও রাজী আছি।

কিন্তু বললেই তো হবে না। ইতিমধ্যে আমি অনেকের জন্য আলোক বর্তিকা। আমার পেছনে বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়ে গেছে। আমার বদান্যতায় তারা কষ্ট করবেন কেন?

-
না না, আপনি ভাল করে ভাবুন, মনে করে দেখুন আপনি কার পেছনে।

মহা মুস্কিল তো। আমি এক মহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম

-  আপনার পেছনে কে? কেননা আমি যার পেছনে দাঁড়াবো বলে ভেবেছিলাম উনি বললেন তার পেছনে একজন আছে। কিন্তু কে আমি দেখিনি, জানি একজনের পরে।
 -
আমার পেছনে যে ছিল সে চরনিংকায়া মানে কালো।
 -
কালো? তাহলে সেটা আমি ছাড়া এখানে আর কেউ হতে পারে না।
 -
না, প্রথমত আমার পেছনে ছিল কালো চুলের মহিলা। আর আপনি মোটেই কালো নন। 

আমি কালো নই। ভাবতে খারাপ লাগল না, যদিও এতে সমস্যা বাড়ল বই কমল না। এমন সময় অন্য এক ভদ্রলোক উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,

 - যে মহিলা এখন ভেতরে আমি তার পেছনে। আপনি একা হলে আমি আপত্তি করতাম না। কিন্তু আমি তো আপনাকে আগে যেতে দিতে পারি না, তাহলে আমাকে অনেকের পরে দাঁড়াতে হবে। আমার পেছনে যারা, তারাই বা এটা মানবেন কেন?

আমি কিছু না বলে দাঁড়িয়ে রইলাম। আসলে দোষ আমার। লোকজনের মুখ মনে রাখতে না পারলে এমন অবস্থায় পড়তেই হয়। ঠিক তখনই এক মহিলা সেই ভদ্রলোককে বললেন

-
আপনি আমার পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন।
-
তাই? আমি তো ভেবেছি আমি মহিলার পেছনে?

সবাই হেসে উঠল। সুযোগ পেয়ে আমি বললাম
-
দেখুন, এর পরে লাইনে দাঁড়ালে আমার পেছনে দাঁড়াবেন, তাহলে আর এমন ভুল হবে না।  

আবারও হাসির ফোয়ারা।

আসলে সত্যটা হল দোষ আমারই। এখনও পর্যন্ত এমনকি বউ ছেলেমেয়েদের সাথে কোথাও অ্যাপয়েন্টমেন্ট করি, সব সময় মনে হয় চিনতে পারব তো? কত লোকজন রাস্তাঘাটে হাই হ্যালো করে, আমিও মাথা নাড়িয়ে উত্তর দিই আর তারপর ভাবতে থাকি লোকটা কে? যদিও এর পরে আমিই গেলাম ডাক্তার দেখাতে আর নিয়ে কেউ কোন উচ্চবাচ্য করল না, কিন্তু আমি এখনও পর্যন্ত জানি না কে আমার সামনে দাঁড়িয়েছিল, আমি কি সত্যি সত্যি কাউকে না ঠকিয়ে ডাক্তারের কাছে গেছিলাম? এমন ঘটনা আমার সাথে প্রায়ই ঘটে। আমি একা হলে সমস্যা নেই, বসে বসে বই পড়ে সময় কাটিয়ে সবার শেষে ডাক্তার দেখিয়ে চলে যেতে পারি। কিন্তু আমার পেছনে যারা দাঁড়ায় তাদের সেই সময়, সেই সুযোগ না তো থাকতে পারে।

ছোটবেলায় পড়া মুখস্ত করার মত এখন দেখছি মানুষের মুখ মুখস্ত করতে হবে!

দুবনা, ২১ ডিসেম্বর ২০২১ 

 

লেখাটি ভালোভাষায় ২১ ডিসেম্বর ২০২১ প্রকাশিত হয়েছে  

https://bhalobhasa.com/russia-through-the-eyes-of-bijan-saha-the-cosmology-research-scientist-part-4/




No comments:

Post a Comment

সিনিয়র সিটিজেন

কয়েক দিন আগে মস্কোয় রিলেটিভিটির উপর এক কনফারেন্সে ইন্ডিয়া থেকে বেশ কয়েক জন বিজ্ঞানী এসেছিলেন। বিভূর সাথে আমার আলাপ দুই বছর আগে গত কনফারেন্সে...