Tuesday, June 29, 2021

ভাইবোন

১৫ দিন পরে পর মস্কো গেলাম। পরীক্ষা অনলাইনে, তবে ডিফেণ্ড অফ লাইনে। তাই যাওয়া। সকালে গুলিয়া মস্কো গেছিল, আমি যাব রাত ৯ টার ট্রেনে। শেষ পর্যন্ত এক ছেলের সাথে ওর কারে গেলাম। ও বাসা থেকে তুলে নিল বলে বাচ্চাদের জন্য স্মোকড মাংস, ক্রিস্টিনার কিছু জিনিস বাদেও বিড়ালের ঘরটা সাথে নিলাম। ছোট ছেলে সেভা ফ্রি থাকলে মেট্রোতে দেখা করে। সামার জবে ঢুকেছে বলে পারবে নাইস হঠাৎ যদি মনিকা বা ক্রিস্টিনার সাথে দেখা হত! স্পোরতিভনায়া এসে মনে হল এস্কেলেটরে একটু উপরে বড় মেয়ে মনিকা দাঁড়িয়ে। মুখ দেখা যাচ্ছিল না বলে শিওর ছিলাম না  উপরে উঠতেই দেখি  দরজা দিয়ে মনিকা বেরিয়ে যাচ্ছে। ভাবলাম আমি বেরিয়ে ডাকব, দেখি মিশা ওর জন্যে অপেক্ষা করছে। তাই আর ডাকা হল না।  ইচ্ছে করেই ওদের দৃষ্টি এড়িয়ে চলে গেলাম। মিশা ওকে নিতে মেট্রো পর্যন্ত এসেছে দেখে খুশিই হলাম। ছেলেরা মেয়েদের আগলে রাখলে কোন বাবা মা খুশি না হয়? ওরা কি আমাকে দেখতে পেয়েছে? বাসায় ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওরা ফিরল
- পাপ, তুমি কখন এলে?
- এই
 মাত্র
আমি যে ওদের দেখেছি, সেটা বুঝতেই দিলাম না।
দুবনা থেকেই খেয়ে এসেছি, তাই শুধু চা আর হালকা কিছু খাব। মিশা দেখলাম রান্না করে রেখেছে মনিকার জন্য। আমাদের বাসায় এসব কাজ দেখি ছেলেরাই করে। আমি, আন্তন, সেভা। এখন মিশা। গুলিয়া, মনিকা, ক্রিস্টিনা - ভালই আছে ওরা। পরের দিন সকালে উঠতে হবে তাই তাড়াতাড়ি শুয়ে পরলাম। তাড়াতাড়ি - কথাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত কে জানে। অনেক আগেই বারোটা বেজে গেছে।
১৬ জুন সকাল দশটা থেকে প্রায় তিনটে পর্যন্ত ১৪ জন ডিফেণ্ড করল। ক্যাফে
বন্ধ। না খেয়েই বাসায় এলাম।
- বাসায় কে?
মিশার উত্তর পেলাম। আর কেউ নেই। মনিকা খুব ভোরে কাজে চলে গেছে। পরে ক্রিস্টিনা আর সেভাও। কিছুক্ষণ পরে মনিকা এল। মিশা ওর জন্য চা করে নিয়ে গেল। বেচারা মিশা!

ছোট মেয়ে ক্রিস্টিনা বিরাট এক ফর্দ ধরিয়ে দিল ওর নাকি গ্যাস্ট্রিক। তাই বেঁছে বেঁছে খেতে হবে। সুপার মার্কেট থেকে ফিরে  ভাবলাম মুরগি ভাজতে যাব, ক্রিস্টিনা বলল সেদ্ধ করতে । ওর জন্য সেদ্ধ করে আমি বাকি কিছু ভাজলাম। রাতে সেভা এল। ও ভাজা কিছু খায় না।  মনিকাও খেলো না। মহামুস্কিল। এখন  আমাকে এসব ছাইপাঁশ গিলতে হবে!
পরের দিন ভার্সিটি থেকে ফিরে দেখি সেভা একা বাসায়। কাজে যাবে ৬ টার দিকে। আমার গাড়ি সন্ধ্যে ৮ টায়। বিড়াল মশার নেট ছিঁড়ে ফেলেছে বাইরে যাবে বলে। সেটা ঠিক করলাম।
ইতিমধ্যেই মনিকা ফির
- পাপ, তুমি আমাকে আগামী মাসে কিছু টাকা ধার দিতে পারবে?
- হ্যাঁ। কি হল আবার?
- ক্রিস্টিনার প্রায়ই ফটোসেশন থাকে। ভালো জুতা কিনব।
- আমি না দুবনা থেকে এক গাদা জুতা নিয়ে এলাম।
- সব
হাই হিল। ওর অসুবিধা হয়। আজ তাই একজোড়া কিনেছি।
- তা বললে আমি টাকা পাঠাতাম। ভালো কিছু কিনতি।
- ওটা ভালই। দামও সাড়ে তিন হাজার রুবল। আমি আরও একজোড়া
কিনব  ভাবছি।
- ঠিক আছে।
- মিশার সাথে কথা হয়েছে সেভার ব্যাপারে। আড়াই থেকে তিন লাখ রুবল লাগবে।
- এটা কি করতেই হবে? একটু দেখুক, শিখুক। কম্পিউটার গেম খেলেই তো জীবন শেষ।
- ও পারবে না।
- তাহলে?
- ভাবছি আমি ক্রেডিট নেব। সেভাও তো কাজ করছে। দুজনে মিলে শোধ করে দেব।
-
হুম। জানাস। চেষ্টা করব সাহায্য করতে।

ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব এড়ানো  
আমি একেবারেই পছন্দ করি না। জীবন থেকে পালিয়ে কতদিন চলা যায়? কিন্তু এখন ওরা বড় হয়ে যাচ্ছে। নিজেরাই বিভিন্ন ব্যাপেরে সিদ্ধান্ত নেয়। মনিকা অনেক আগে থেকেই ভাইবোনদের নিয়ে ভাবে। ওরা যাতে একটু ভালো জামাকাপড় পরে সেদিকে খেয়াল রাখে। ভালই লাগে।
- কাঁধটা
বেশ ব্যথা করছে। একটু মালিশ করে দিবি।
- অবশ্যই।

আমাকে অবাক করে দিয়ে খুব ভালো করে মালিশ করে দিল। বন্ধু-বান্ধবী থাকলে ছেলেমেয়েরা বেশ কেয়ারিং হয়। ছোটবেলায় আমি ছেলেমেয়েদের মালিশ করে দিতাম, এখন আন্তন, মনিকা, ক্রিস্টিনা, সেভা - কেউই না করে না। তবে আন্তন আর মনিকা বেশ সুন্দর করেই সেটা করে, ছোটরা দায়সারা ভাবে। কদিন পরে  ওরাও বড় হবে।

দুবনা, ২৫ জুন ২০২১


লেখাটি ২৯ জুন ২০২১ আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়

https://www.ajkerpatrika.com/7551/


সিনিয়র সিটিজেন

কয়েক দিন আগে মস্কোয় রিলেটিভিটির উপর এক কনফারেন্সে ইন্ডিয়া থেকে বেশ কয়েক জন বিজ্ঞানী এসেছিলেন। বিভূর সাথে আমার আলাপ দুই বছর আগে গত কনফারেন্সে...