Monday, July 18, 2022

দাড়ি

 আমাদের স্কুল বা কলেজ জীবনে দাড়ির তেমন কদর ছিল না, তবে গোঁফ রাখত প্রায় সবাই। সেটা ছিল পুরুষত্বের প্রতীক। বড়দের মধ্যেও দাড়ির খুব একটা প্রচলন ছিল না। সাধু সন্ন্যাসী বা পীর হুজুররা দাড়ি রাখতেন। যদি সাধু সন্ন্যাসীদের দাড়ি আর গোঁফ গজাত যুগপৎ ভাবে, পীর হুজুররা গোঁফ রাখতেন না। আমাদের বাড়িতে অবশ্য দাড়ির ব্যাপারে বিভিন্ন ধারা চালু ছিল। ছোট কাকা ছিলেন ক্লিন সেভড। বাবা শুধু গোঁফ রাখতেন। প্রতি সপ্তাহে মনীন্দ্র দা এসে এদের সেভ করে দিতেন। মেজো জ্যাঠামশাই চুল দাড়ি কোন কিছুই কাটতেন না। জ্যাঠামশাইকে  দেখতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত লাগত তাই আমরা পেছন থেকে তাঁকে রবি ঠাকুর বলতাম। আমাদের বাড়িতে তখন প্রচুর লোকজন। নিজেরা বাদেও আত্মীয় স্বজন ছিল, ছিল কাজের লোকজন আর দূরের পরিচিত বন্ধুদের অনেকের ছেলেরা যারা মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজে পড়ত আমাদের বাড়ি থেকে। থাকা খাওয়ার অভাব ছিল না। আত্মীয় স্বজনদের একজন ছিলেন দৌলতপুরের দাদু। উনি ছোট কাকার শ্বশুর, ব্যবসার হিসাবের খাতা লিখতেন। মাঝে মধ্যে দিদিমা আসতেন। জিজ্ঞেস করতেন

- তোর দাড়ি কোথায়?      
- কৌটায় ভরে রেখেছি। কৌটা আলমারিতে। বড় হলে পরব।

পরে কলেজে পড়ার সময় যখন জামাত আর ছাত্র শিবির দেশের রাজনীতিতে একটু একটু করে ফিরতে শুরু করে তখন দাড়ি ছিল মৌলবাদী রাজনীতির প্রতীক, মানে ধারণা করা হত এ ধরণের রাজনীতির সাথে জড়িত যারা তারাই দাড়ি রাখে।

মস্কোয় এসে দেখলাম বাঙালিরা প্রায় সবাই গোঁফ কামিয়ে ফেলেছে। দাড়ি রাখার তো প্রশ্নই আসে না, ভয় দেখাত শীতে সেখানে বরফ জমবে। কিন্তু গোঁফ না রাখার কারণ বুঝতাম না। কেউ কেউ বলত তাতে নাকি চুমু খেতে অসুবিধা হয়, ভাবখানা এই যেন চুমু খাওয়া ছাড়া কারও আর কোন কাজ নেই। তবে সবার মত আমিও এক সময় গোঁফকে বিদায় জানালাম। প্রথম প্রথম আয়নায় দেখে নিজেই নিজেকে চিনতে পারতাম না।

আমাদের এক বড় ভাই দাড়ি গোঁফ ঠিক রাখতেন না, তবে তার জুলফি ছিল প্রায় থুতনি পর্যন্ত, মানে দুই গাল ভরা – যা আসলে দাড়িই। সাত্তার ভাই তাই দাড়ি রাখতো থুতনির ওখানটায়। একে বলতাম ছাগল দাড়ি। আর বোনাস হিসেবে রাখত গোঁফ। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলত
- বড়ভাই এই জায়গাটা চাষ করেনি তাই আমি শূন্যস্থান পূরণ করছি।

নারুদা নামে আমাদের আরেক বড়ভাই ছিল। বলত
 - দাড়ি রাখা হল গরীবের ফ্যাশন, আজ একটু রাখ, কাল কাট। বিনে পয়সায় হরেক রকমের ফ্যাশন করা যায়।  
তবে সোভিয়েত আমলে আমরা না ছিলাম গরীব, না ছিলাম ধনী। আমরা বন্ধুরা চলতাম স্টাইপেন্ডের টাকায়, তাই সবাই ছিলাম যাত্রী একই তরণীর।

আজকাল অনেক মেয়েকে দেখি মাথার অর্ধেকটা ক্লিন সেভ করে, বাকিটা ফ্যাশন করে চুল রাখে। ভাগ্যিস ওদের দাড়ি নেই, তাহলে এক গাল দাড়ি আর এক গাল ক্লিন সেভের সুযোগ থাকত। অবশ্য ছেলেরাও সেটা করে দেখতে পারে। অনেকে মাথায় বিভিন্ন রকমের ছবি আঁকে, দাড়িতেও সেটা করা যেত। যদিও এদেশে মেয়েরা নানা রঙে চুল রাঙায়, ছেলেদের মধ্যে সেটার চল তেমন নেই। এমনকি ওরা কলপ পর্যন্ত দেয় না। অন্য দিকে আমাদের দেশে অনেকেই চুল দাড়িতে কলপ বা মেহেদি লাগায়। নীল, হলুদ, সবুজ, গোলাপি এসব রঙেও দাড়িকে রাঙানো যায়। জানি না দেশে এ নিয়ে কেউ ভাবে কিনা।

আমাদের দেশে দাড়ি কেন যেন দেবদাসের সাথে সম্পর্ক যুক্ত। মানুষের ধারণা দাড়ি রাখার সাথে প্রেমে ছ্যাঁক খাওয়ার একটা নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। আমি জীবনে দাড়ি রেখেছি বেশ কয়েক বার। তবে একবারও প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার সাথে এর যোগাযোগ ছিল না। আসলে এ জন্যে দাড়ি রাখলে আমি জীবনে দাড়িই কামাতে পারতাম না। আমি তো সব সময় প্রেমে পড়েই থাকি। জীবনের সাথে, প্রকৃতির সাথে। কিসের প্রেমে না পড়ি। রাস্তায় একটা ফুল বা পাতা দেখে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি, ছবি তুলতে যেতে পারি। বই পড়ে কারও প্রেমে পড়ে যাই। মনে আছে দস্তইয়েফস্কির “সাদা রাত” পড়ে লেনিনগ্রাদে সাদা রাতে নাস্তিয়ার অপেক্ষায় সারা রাত বসে ছিলাম, আসেনি। যখন মস্কোয় অত্রাদনায়া মেট্রো স্টেশন চালু হল ওখানে গিয়ে ঘুরেছিলাম নাতাশা রস্তোভার খোঁজে। যুদ্ধ ও শান্তির নায়িকা নাতাশার বাবার বাড়ি ছিল ওখানেই। দেখা পাইনি। এই আমি যদি প্রেমের জন্য দাড়ি রাখতাম তাহলে এত দিন তা আজানুলম্বিত হয়ে দুবনার রাস্তাঘাট ঝাড়ু দিত।

দাড়ি নিয়ে বিভিন্ন রকমের আনেকডোট আছে রাশিয়ায়। এখানে একটা পুরনো আনেকডোট অপ্রাসঙ্গিক হবে না। এটা একটা দাড়িওয়ালা বুড়ো আনেকডোট।
 
অনেক আগে মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে এক প্রফেসর ছিলেন। খুব নামকরা আর বদ মেজাজি বলে পরিচিত। ওনার ছিল ডাকসাইটের দাড়ি। সবাই তাঁকে সমীহ করে চলত। তো একদিন এক ছাত্র তাঁকে জিজ্ঞেস করল
- প্রফেসর আপনি যখন ঘুমান তখন দাড়ি কম্বলের বাইরে রাখেন না ভেতরে?
- সেটা তো বলতে পারব না। কোনদিন খেয়াল করিনি।
- আমরা ভাবতাম আপনি সব জানেন। এখন দেখছি কিভাবে ঘুমান সেটাই জানেন না।
প্রফেসর কোন উত্তর না দিয়ে নিজের কাজে চলে গেলেন। রাতে ঘুমাতে গিয়ে ছেলেটার কথা মনে পড়ল। ভাবলেন এখন জেনে আগামীকাল ছেলেটার প্রশ্নের উত্তর দেবেন। কিন্তু একি কান্ড। ঘুম আসছে না। দাড়ি কম্বলের নীচে রাখেন – অস্বস্তি লাগে। কম্বলের বাইরে রাখেন, তাতেও অস্বস্তি। সারা রাত তিনি দু চোখ বন্ধ করতে পারলেন না। ক্লাসে এসে প্রথমেই তিনি সেই ছেলেকে ডেকে পাঠালেন
- শয়তান, ইয়ার্কি করার জায়গা পাও না? কিভাবে ঘুমাই? দাড়ি কম্বলের বাইরে না ভেতরে? আমি ঘুমাই না, বুঝলে, ঘুমাই না।

এক সময় প্রতিদিন শেভ করতাম, পরে সেটা সপ্তাহে সাড়ে তিন বারে গিয়ে ঠেকে। করোনা কালে অবশ্য সেটা কমে দাঁড়ায় সপ্তাহে দু’ বার। এখন আর তেমন কোন হিসেব নেই। মন চাইলে শেভ করি না চাইলে না। আমার দাড়ি রাখা আসলে আলসেমিতে অথবা গালে ব্রণের কারণে। তবে এবার ঘটলো ভিন্ন ঘটনা। সেদিন সেলুনে গেলাম চুল কাটতে। মেয়েটা জিজ্ঞেস করল (এখানে মেয়েরাই সাধারণত চুল কাটে, ছেলেরা যে কাটে না তা নয়, তবে কালেভদ্রে)
- কিভাবে কাটবো?
- কান খোলা, যতদূর সম্ভব ছোট তবে চুলগুলো যেন সজারুর কাঁটার মত দাঁড়িয়ে না থাকে।

 
এক্ষেত্রে আমি ভাঙ্গা রেকর্ড, সবাইকে এই একই উত্তর দিই বিগত প্রায় দুই যুগ ধরে। আসলে আমার চুল খুব শক্ত, আমার মতই ঘাড় ত্যাড়া। কিছুতেই কথা শোনে না।
মেয়েটা চুল অনেকটা ছোট করে জিজ্ঞেস করল
- এতে চলবে?
- আরেকটু ছোট করতে পারেন।
কিছুক্ষণ পরে টের পেলাম যে খুব বেশি রকম ছোট হয়ে গেছে।
- একটু বেশি ছোট হয়ে গেল না?
- আপনিই তো বললেন।
কি আর করা। উপায় বের করলাম সাথে সাথেই। যতদিন চুল ছোট থাকবে দাড়ি দিয়ে সেটা মেক আপ করব। তারপর কয়েক দিন পাল্লা দিয়ে চুলের সাথে দাড়ি বড় হতে শুরু করল। একদিন ডাক্তারের কাছে গেলে বললেন
- এটা কি আপনার নতুন ইমেজ?
- না, চুলের কম্পেনসেশন। সাথীও বলতে পারেন।
- খারাপ না। মানিয়েছে কিন্তু।

মঙ্গলবার যখন ফটো ক্লাবে গেলাম সবাই অবাক। আমার সত্তর বয়সী বন্ধু ইউরা বলল
- দাড়ি। তা বেশ ভাল। কিন্তু তুমি কি ভেবে দেখেছ এখন প্লেট চাটবে কিভাবে?
- আমার জিহ্বা খুব লম্বা।
- বা, বেশ ভাল উত্তর তো।
- মানে?
- আমার এক আত্মীয়কে জিজ্ঞেস করলে খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। এখনও ভাবছে।  
- জানই তো আমি পদার্থবিদ। একা একা ভাবব কেন? ভাবলাম তোমাকেও ভাবাই।
- সে আবার কী?
- দেখ তুমি আমাকে ভাবনায় ফেললে কিভাবে প্লেট চাটব। কিন্তু তুমিও এখন ভাববে বিজনের জিহ্বা কত লম্বা।
- যাই বল, আমি কিন্তু প্লেট চাটি।
- আমিও চাটি।
- তাই নাকি? তবে আমি চাটি লুকিয়ে। কেউ ঘরে না থাকলে।
- আমি বাসায় এসব নিয়ে ভাবি না। বিশেষ করে চাটনি থাকলে। তুমি যদি দেখতে কুকুরেরা তখন কীভাবে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি যেন যাকে বলে গণ শত্রু।
- ওদের খেতে দাও না?
- ওদের প্লেটে সব সময় খাবার থেকে। তবে ওদের ধারণা আমার খাবার বেশি টেস্টি। মাঝে মধ্যে ওদের খাবার দেখে আমারও লোভ হয়। দেশের চানাচুরের কথা মনে পড়ে যায়।
আমাদের গল্প জমতে থাকে। স্লাভা বলে
- বিজন, এবার পোজ দাও। কিছু ছবি তুলব।
দেমিদের হাতে ক্যামেরা দিয়ে লাইট ঠিক করতে শুরু করে। পরপর দু সপ্তাহ ছবি তোলা হয়। শেষের দিন স্লাভা বলল
- ভাবছি তোমার সাথে রাস্তায় কিছু ছবি তুলব দাড়ি থাকতে থাকতে।
- দেখি।
পাশ থেকে ইউরা বলল
- কি, প্লেট চাটতে পারছ?
- এ নিয়ে ভাবি নি।
- সেদিন যে বললে ভাববে।
- না ভাবার জন্য আমার কাছে প্রতিষেধক আছে।
- সেটা আবার কী?
এই সুযোগে আমি ওকে সেই বুড়ো প্রফেসরের গল্প শুনিয়ে দিলাম।       

যাহোক, স্লাভা বলেছে দাড়ি সহ ছবি তুলবে। দাড়ি কি রেখেই দেব? কিন্তু চাইলেই তো আর রাখা যায় না। বাসার কুকুরগুলো আমাকে দেখে প্রায়ই তেড়ে আসে। কে জানে চোর মনে করে কিনা। বিশেষ করে রাতের বেলায়। বৌ বলে
- তোমার দাড়ির স্পর্শে আমার সুড়সুড়ি লাগে।
আমি মনে মনে ভাবি কি ভালই না হয়েছে যে বৌদের দাড়ি নেই (অবশ্য এটা আর ইউনিভার্সাল সত্য নয়, আজকাল অনেকেই ছেলেদের বৌ হিসেবে বিয়ে করে)। এদিকে বাইরে গরম। বিকেলে ঘুরতে গেলে দাড়ির ভেতর মশারা লুকিয়ে থাকে। কি করা? আচ্ছা দাড়িরা মিটিং মিছিল করতে পারলে নিশ্চয়ই ওদের জেনোসাইডের বিরুদ্ধে গর্জে উঠত। ওদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দিলাম ওদের খতম করে।
পরের দিন স্লাভার মেসেজ
- বিজন আজকে পোজ দিতে আসবে তো!
- আসব। তবে আমি কিন্তু দাড়িগুলোকে কচু কাটা করেছি।
- খুবই দুঃখজনক।
আধ ঘন্টা পরে আবার মেসেজ 
- ঠিক আছে, শেভ যখন করেই ফেলেছ কি আর করা! তাহলে এমনিতেই চলে এসো।
মনে পড়ে গেল ইয়েলৎসিনের সময়ের এক চুটকি।
বিজ্ঞানীদের অবস্থা তখন যার পর নেই খারাপ। খাবারের টাকা নেই, গবেষণার টাকা নেই। একদিন তাদের এক ডেলিগেশন গেল প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করতে। তবে প্রেসিডেন্টের অবস্থাও খারাপ। তিনিও চলেন অন্যের মানে এরকম প্রজাদের দান দক্ষিনায় মানে ঘুষের টাকায়। তাঁর দেহরক্ষী বিজ্ঞানীদের কিছুতেই ঢুকতে দেবে না। বাক বিতণ্ডা শুনে ইয়েলৎসিন বেরিয়ে এলেন
- কী হল আপনাদের?
- বরিস নিকোলায়েভিচ, আমাদের খাবার টাকা নেই, গবেষণার টাকা নেই। কোন পয়সা নেই।
- কি আর করা। ঠিক আছে, ওনাদের এমনিতেই ঢুকতে দাও।  
বলা বাহুল্য, বিজ্ঞানীরা আর প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করতে ভেতরে ঢুকেননি। তাঁরা বিজ্ঞ মানুষ। এতেই বুঝে গেছেন চেয়ে লাভ নেই, দিতে পারবেন না।

হ্যাঁ, আমি বিজ্ঞানী নই, তাই  দাড়ি না থাকা সত্যেও গেলাম ছবি তুলতে। দাড়ি ছাড়া ছবি দেখে এক বন্ধু লিখল
- দাড়ি ছাড়া তোমাকে একেবারেই অরডিনারি লাগছে। দাড়িতেই ভালো ছিল।
- কাক যতই ময়ুরের পেখম লাগাক সে কাকই থাকে। আমি অরডিনারি মানুষ। দাড়ি রেখে যতই অসাধারণ হবার চেষ্টা করি না কেন, দিনের শেষে সাধারণই থেকে যাই।

 

দুবনা, ১৭ জুলাই ২০২২

বিঃ দ্রঃ লেখাটি ১৮ জুলাই ২০২২ ভালোভাষায় প্রকাশিত হয়েছে 

https://bhalobhasa.com/russia-through-the-eyes-of-bijan-saha-the-cosmology-research-scientist-part-11/


 

Wednesday, July 6, 2022

ভোলগার দিনকাল

 


()

সাদাকালো শাড়ি পরে
বার্চগুলো নাচছে
তা দেখে শেয়ালছানা মিটিমিটি হাসছে

 

()

ভোলগার শীতল জলে
সূয্যি মামা দিল ডুব
সারাদিন টো টো করে সে এখন ক্লান্ত খুব

 

()

গাছের ডালে ডালে
জেঁকে বসে বসন্ত
রূপেতে বসন্ত সত্যিই অনন্ত

 

()

কপি পেস্ট ভালোবাসা
আনন্দ বেদনা আশা
কপি পেস্ট হ্যালো সুপ্রভাত
কপি পেস্ট লেখাপড়া
স্বপ্নের জীবন গড়া
কপি পেস্টে কাটে দিন রাত

 

()

মেঘের পাখায় ভর করে
জল আকাশে উড়ে
সূর্যের তেজে কান্না হয়ে
পৃথিবীতে পড়ে

 

()

ভোলগার কালো জলে
মাছ দেখ নাচছে
তাই দেখে
হাঁসা হাঁসি  মিটি মিটি হাসছে

()

ফাঁকিবাজ সূর্যটা
লুকোচুরি খেলছে
তাই দেখে মেঘ বালিকা ডানা দুটো মেলছে

 

()

ভর দুপুরে হাজার মানুষ
ভোলগার জলে নাইছে
আপন মনে বুড়ো জেলে নৌকখানি বাইছে

 

(৯)

জাহাজ চলে উজান ভাটি

সঙ্গে মানুষ ঘোড়া হাতি
নদীর ধারে মানুষ নেড়ে হাত
 
জানায় তাদের ভালবাসা
 
জাগায় প্রাণে নতুন আশা
 
একটু হাসি চোখাচোখি তাতেই বাজি মাত
 

 

(১০)

আমাদেরই গাঁয়ের ভেতর ভোলগা নদী বয়
বরফের নীচে কাটে তার অর্ধেক সময়
গ্রীষ্ম কালে রোদের ডাকে ভাঙলে তার ঘুম
ছেলে বুড়ো সবার পড়ে সাঁতার কাটার ধুম

কবিতাগুলো ০৬ জুলাই ২০২২ জ্বলদর্চি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে

https://www.jaladarchi.com/2022/07/volgar-dinkal.html




Tuesday, July 5, 2022

জীবন রেখা

 

চোখ খুলতেই দেখলাম তীব্র সাদা আলোয় ঘরটা যেন ভেসে যাচ্ছে। উপরে ধবধবে সাদা ছাদ, চারিদিকে একই রকম সাদা দেয়াল। প্রথমে বুঝতেই পারিনি এ আমি কোথায় এলাম।
- আপনার ঘুম ভাঙলো?
এক মায়াবী কণ্ঠ ভেসে এল কানে। চোখ তুলে তাকাতেই মাথার কাছে দাঁড়ানো এক সুন্দর মুখ ভেসে উঠল। অল্প বয়সী। সাদা পোশাক পরা মেয়েটাকে দেখে বুঝলাম আমি হাসপাতালে কোথাও। ওকে দেখে মনে হল ও যেন আমার জেগে ওঠার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। জানি না কেন যে
কে দেখে প্রথমেই মনে হল ছবি তোলার কথা। কেন বলেতে পারব না। আসলে ওই সময় আমি যা যা করেছি এখন সব কিছুই কেন যেন আবছা আবছা লাগছে আর তার চেয়েও বড় কথা ঠিক কেন এমন করলাম তার কারণ বুঝতে পারছি না।
- আপনি উঠতে পারবেন?
- হুম।
যদিও শিওর ছিলাম না। মনে হচ্ছিল আরেকটু ঘুমুলে মন্দ হয় না। তবুও কেন যেন ব
লাম পারব।  
- আমি কোথায়?
- চার তলায়।
এর আগে এখানে আমি কখনও আসিনি। কীভাবে এলাম সেটাও জানি না।
- আপনি উঠে পোশাকটা
পরতে পারবেন?
- ঠিক আছে।
আমার গায়ে ছিল সোয়েটার। পরনে ওদের দেওয়া সাময়িক একটা
হাফপ্যান্ট। আমাকে ওটা খুলে নিজের প্যান্ট পরতে হবে। আমি ওর দিকে তাকালাম। যেন বলতে চাইলাম ও ঘর থেকে চলে গেলে আমার সুবিধা হবে।
- কোন অসুবিধা নেই। আপনি চেঞ্জ করুন।
ওর কথায় বুঝলাম আমাকে ওর সামনেই চেঞ্জ করতে হবে, আমাকে একা রেখে ও যাবে না। চেঞ্জ করে তৈরি হলাম।
- আপনি ওইইয়াইয়িতে মানে জেআইএনআর- এ কাজ করেন?
- হ্যাঁ।
- ইন্ডিয়া থেকে?
- না। আমি বাংলাদেশ থেকে। আপনি দুবনার?
- না, আমি কিম্রি থেকে। শুনেছেন সেই শহরের কথা?       
- হ্যাঁ। গেছিও কয়েক বার। ছবি তুলেছি। মাঝে মধ্যে এক আধটু ছবিও তুলি।
আমি নিজেই বলতে পারব না কেন এটা বললাম।
- আমিও ছবি তুলি। আর পোজ দিতেও পছন্দ করি।
জানি না ও কি বলতে চাইল আর আমিই বা কি বুঝলাম। কি মনে করে ভিজিটিং কার্ড ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললাম
- ছবি তোলার ইচ্ছে হলে ফোন করবেন। চেষ্টা করব তুলতে।
- ঠিক আছে। আপনি নিজে যেতে পারবেন নাকি আমি ধরব?
- না, ধরার দরকার নেই। চলুন।
এরপর ও আমাকে লিফটে করে নীচে নিয়ে এল। ঠিক যে রুমটায় আমার অপারেশন হয়েছিল সেখানে বসিয়ে রেখে চলে গেল। আমার জানা হল না ওর নাম। এমনকি এখন ওর মুখটা পর্যন্ত মনে করতে পারছি না।

এটা ঘটেছ ১০ মার্চ। বলতে গেলে জীবনের প্রথম অপারেশন। সেই ১৯৯৫ থেকে ইএনটি স্পেশালিস্ট আমাকে বলছেন নাকের অপারেশনটা করিয়ে নিতে। শ্বাস নিতে একটু কষ্ট হয়। তবুও রাজী হইনি। কেমন যেন ভয় করে। এখন মনে হল অপারেশনে ভয়ের কিছু নেই। সময় করে নাকটাকে মানুষ করতে হবে।

অসুখ বিসুখের সাথে আমার বরাবরই বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান, যদিও শান্তিপূর্ণ বলা কঠিন এমনকি ওদের জন্য শরীরে একটা রেস্ট হাউজ খুলেছি। যার যখন প্রয়োজন এসে থেকে যায় কিছু দিন। তবে এবার কেন যেন কয়েকটা অসুখ জেঁকে বসেছে, কিছুতেই যেতে চাইছে না। সমস্যা হল ওরা বেশি আরাম পেলে আমার ব্যারাম বাড়ে। এখানেও সেই নিত্যতার সূত্রই কাজ করে। অসুখের ভূত তাড়াতে তাই ডাকতে হল কবিরাজ মানে ডাক্তার। সাথে সাথে কিছু চেক আপ। সেখানেই পলিপের দর্শন, বায়োপসি ইত্যাদি। প্রথম টেস্ট করল ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভালবাসা দিবসে। জীবনে এই প্রথম জেনারেল এনেস্থিসিয়া। সেদিন অবশ্য ঘুম ভাঙ্গে তলায়, পরিচিতা মহিলার ডাকে। তাই ভড়কে যাইনি। বললেন ভয়ের কিছু নেই। দশ দিন পরে বাইয়োপসির রেজাল্ট দেবে। তারপর ঠিক করতে হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।       

আসলে কয়েক মাস ধরেই একটু অস্বস্তি অনুভব করছিলাম। তাই একটু টেনশন যে ছিল না তা নয়। যাহোক এখন অপেক্ষা ছাড়া কিছুই করার নেই। বাসায় অবশ্য কিছু বলিনি। সাধারণত আমার অসুখ বিসুখ হলে নিজে ডাক্তারের কাছে চলে যাই। এসব সমস্যা সমাধান করার জন্যই তো ডাক্তার। তাছাড়া আমার স্ত্রী ডাক্তারদের দু চোখে দেখতে পারে না। সন্তান প্রসব ছাড়া অন্য কোন কারণে ডাক্তারদের কাছে যেতেই চায় না। আমি ঠিক উল্টো। তাই আমার চিকিৎসাপত্র সব নিজের দায়িত্বে। দরকার না হলে জানাইও না। এবার সেভা বেড়াতে এলে কথায় কথায় ওকে বললাম।

- বায়োপসি কি জন্যে?   
-
অঙ্কোলজিক্যাল সমস্যা মানে ক্যান্সার কিনা সেটা জানার জন্য।
-
হুম। যদি তেমন কিছু হয়?
-
আমার তো কখনও নামী দামী অসুখ হয়নি। হলে গর্ব করতে পারব। 

আমরা দুজনে নিয়ে একটু হাসাহাসি করলাম। গুলিয়া একটু গম্ভীর হয়ে গেল। ফ্যামিলি গ্রুপে লিখলে আন্তন জানতে চাইল এখন কেমন আছি। ক্রিস্টিনা লিখল

- কিছু হলে জানিও। আমি পিতেরবুরগ থেকে চলে আসব।

মনিকা নিয়ে কিছুই লিখল না।

২৪ তারিখে রেজাল্ট দেবার কথা ছিল, তবে যিনি সেটা করবেন তিনি অসুস্থ থাকায় ডেট পিছিয়ে গেল। বলল মার্চ যোগাযোগ করতে।

২৮ ফেব্রুয়ারি আমার ক্লাস ছিল। ২৭ তারিখ গেলাম মস্কো। মনিকাকে ঠাট্টা করে বললাম
-
এখন থেকে তুই হবি বাসার প্রধান। সব দায়িত্ব তো তোর উপরেই পড়বে। 
-
তোমার সব ব্যাপারে হাসিঠাট্টা না করলেই নয়।
-
ঠাট্টার কি আছে। যদি তেমন কিছু হয় তোকেই তো দায়িত্ব নিতে হবে।

পরের দিন ক্লাস শেষে বাসায় ফিরলাম। আমার গাড়ি রাত টায়। মনিকাকে লিখলাম আমি বেরুচ্ছি।
-
আমি চলে আসব। একটু অপেক্ষা করো।
জামা কাপড় পরতে পরতে মনিকা চলে এলো। দেখলাম পোশাক বদলায়নি। সেভা জিজ্ঞেস করল
-
মনিকা তুই কোথায় যাবি?  
-
দেখি ময়লাটা ফেলে আসি আর পাপাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।
আমি একটু অবাকই হলাম। বাসা থেকে বেরিয়েই দেখি ওর চোখে জল।
-
তুমি না থাকলে আমরাও থাকব না।
-
আচ্ছা, এখনও তো কিছু হয়নি। প্রথমত এটা একটা টেস্ট। যদি খারাপ কিছু হয় চিকিৎসা করা যাবে। এত ঘাবড়ানোর কী আছে?
-
যে তুমি বললে?
-
আমি ঠাট্টা করলাম। যা বাসায় যা। পরশু রেজাল্ট দেবে। তখদেখা যাবে কি করা যায়।

আসলে আমার এই ঠাট্টা যে মনিকাকে এতটা ভাবিয়ে তুলবে সেটা কখনও ভাবিনি। এই প্রথম নিজেও একটু সিরিয়াস হলাম বায়োপসির রেজাল্টের ব্যাপারে। দুই তারিখে যখন সেটা আনতে গেলাম ডাক্তার বললেন

ভয়ের কোন কারণ নেই। আর কয়েকটা পলিপ আছে, সেগুলো রিমুভ করব। এরপর আবার বছর খানেক পরে দেখাতে হবে। আপনি ফর্মালিটিগুলো তাড়াতাড়ি শেষ করুন, আমি অপেক্ষা করব। 

আমি এটা জেনে প্রথমেই মনিকাকে লিখলাম
- ভয়ের কিছু নেই। সব ঠিকঠাক। শুধু আরেকবার ডাক্তারের কাছে গিয়ে পলিপগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে।
- ঠিক আছে।

একটা পাথর যেন বুক থেকে নেমে গেল।

আমার মনে পড়ল খোরশেদ ভাইয়ের কথা। উনি আমার বছর দশেকের সিনিয়র। মস্কোয় মেডিসিনে পড়াশুনা করে এখন আমেরিকায় আছেন। খুব আদর করতেন। আমাকে প্রায়ই বলতেন
- অভাগা যেদিকে চায় সাগর শুকিয়ে যায়।
এটা অবশ্য তখনকার মস্কো জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। ভেবেছিলাম শেষমেশ একটা নামী দামী অসুখ এসে ভর করবে তাও হল না। যাকগে। কি আর করা। আমি জীবনে যতটা না ফল নিয়ে ভাবি তার চেয়ে বেশি ভাবি প্রক্রিয়া নিয়ে। ফটো তোলার সময়ও তাই। সেটা করতে গিয়ে যে উত্তেজনা, যে উৎসাহ সেটাই আমার বড় পাওয়া। ছবি খুব ভাল না হলেও এ নিয়ে মাথা ঘামাই না। একই কথা কাজের ক্ষেত্রে। বেতনের চেয়েও কাজের আনন্দ আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে মেডিক্যাল টেস্টে একেবারেই উল্টো। না না, বলব না যে এখানে ফলাফল নিয়ে আমি চিন্তিত নই, তবে সেটা করার প্রস্তুতি খুবই বিরক্তিকর। এটা এবার আমি হাড়ে হাড়ে টের পেলাম।
অনেক আগে মৃত্যুকে খুব ভয় পেতাম। এতই ভয় পেতাম যে মরে মরেই বেঁচে থাকতাম। তারপর এদেশে পড়তে এসে ভয়টা অনেকটাই কমে যায়। সেটা নতুন করে শুরু হয় বাচ্চাদের জন্মের পরে। ওদের নিজেদের পায়ে দাড় না করিয়ে কি মরা যায়। বিশেষ করে নব্বুইয়ের দশকের আর এই শতাব্দীর প্রথম দিকে, যখন উগ্রবাদীদের প্রবল প্রতাপ ছিল তখন ঘর থেকে বাইরে বেরুতেই ভয়ে আত্মারাম খাঁচা ছাড়া হয়ে যেত। তবে কসমোলজির ভেতরে যতই ঢুকেছি নিজের ক্ষুদ্রতা ততই বিশাল হয়ে উঠেছে। আর এতে করে বেঁচে থাকার প্রতি অনীহা নয়, বেঁচে থাকার গুরুত্ব অনেক কমে গেছে। আর গত বছর করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে থাকার সময় মৃত্যুকে আরও কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তাই এ নিয়ে এখন ভয় ভাবনা তেমন আর নেই। তাছাড়া আরও একটা জিনিস জানি, স্বপ্নের কোন শেষ নেই, শেষ নেই পরিকল্পনার। এক সময় মনে হত এই এই জিনিস পেলেই জীবন সার্থক। এখন জানি জীবনে কখনই এমন দিন আসবে না, যেদিন বলতে পারব আমার আর কিছুই করা
, কিছুই দেখা, কিছুই জানা বাকি নেই। মানে স্বপ্নটা সব সময় অপূর্ণই থেকে যাবে। আর তাই যদি হয় তাহলে জীবন নামে এই চলার পথ কখন আর কোথায় শেষ হবে এ নিয়ে ভাবা সময়ের অপচয়।

কথামত ২০ মার্চ আবার বায়োপসির রেজাল্ট দিল। সব ঠিকঠাক। আপাতত আবার কিছুদিন শান্তিতে ঘুমানো যাবে, লাকিলি সেটা রেস্ট ইন পিস হবে না। বাসায় সবাই খুব খুশি।

২৮ মার্চ আবার ক্লাস ছিল। ২৭ তারিখে মস্কো গেলাম। মনিকা আর সেভার সাথে সময় কাটল ভালোই। রাই আজকাল রান্না করে। আমি তাই বসে বসে টিভি দেখি বা বই পড়ি। গতকাল মানে ২৮ মার্চ দুবনায় রওনা হবার আগে টিভি দেখছিলাম। সেটা একটা টক শো। এখন টক শো মানেই ইউক্রেন নিয়ে কথা। সেভা পাশে বসে ছিল।

- তুমি এসব দেখে কী মজা পাও? কোন সিনেমা দেখলেই তো পার।
- আমি তো মজা পাওয়ার জন্য দেখি না। কিছু ইনফরমেশন নেই।
- কিন্তু এখানে তো অনেক ভুলভাল
বলে। প্রোপ্যাগান্ডা।
- না রে। প্রত্যেকেই আমরা কোন না কোন কিছু দেখে নিজের মত করে ইন্টারপ্রেট করি। বলার সময় কেউ এক বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়, অন্য লোক অন্য বিষয়ে। আমার কাজ শুধু তথ্য জানা ওদের ইন্টারপ্রিটেশন বাদ দিয়ে। আমি তো শুধু ওদের দেখি না, অন্য বিভিন্ন মাধ্যম থেকেও খবর নিই।
- এসব জেনে কী হয়?
- মাঝেমধ্যে এ নিয়ে লিখি।
- কোথায়?
- বাংলাদেশের পত্রিকায়।
- পয়সা নাওনা নিশ্চয়ই।
- না।
- সেটাই ভাল। তুমি এমনি এমনি ছবি তুল বলে ছবি খুব ভাল হয়।
- হ্যাঁ। পেশা হলে
ভালোবাসা থাকে না। আর ভালোবেসে কিছু না করলে সেটা ভালো হয় না।
- কিন্তু এই যে এত তথ্য জান এটা তোমাকে আপসেট করে না।
- না। আমি চেষ্টা করি শুধু দরকারি তথ্যটা নিজের ভেতর রাখতে। যেটা দরকার নেই সেটা নিয়ে খুব একটা না ভাবতে।
- আমি এটা খেয়াল করেছি।
- কী?
- তুমি সহজে আপসেট হও না।

সেভার সাথে আমার অনেক ক্ষেত্রেই মিল আছে। তবে অমিল অনেক। আমি আর যাই করি একাডেমিক পড়াশুনা খুব সিরিয়াসলি করতাম। ও এসব একেবারেই পছন্দ করে না। পড়ে যখন যেটা ভাল লাগে। বর্তমানে একাডেমিক লেখাপড়া অবশ্য আগের মত নেই। এখন অনেকে ভার্সিটি পাশ করেও
জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, আবার অনেকেই ফর্মাল পড়াশুনা না করে নিজের ইচ্ছে মত কোন কোর্স করে ঠিক চলে যায়। এতে সুবিধা হল নিজের ভাললাগাটা নিজের ইচ্ছেমত কাজে লাগানো যায়। তবে এটা সব সময়ই ছিল। প্রতিভা থাকলে রবীন্দ্রনাথদের কেউ আটকে রাখতে পারে না, না থাকলে হাজারটা ডিগ্রিও কোন কাজে আসে না। সেভা আমাকে প্রায়ই এসব বোঝানোর চেষ্টা করে। নিজের মত করে যুক্তি দেখায়। আমি শুনি। হাসি। কিছু বলি না। সব সময় যে ভুলভাল বলে তা কিন্তু নয়, তবে বাবা হিসেবে আমাকে একটা প্ল্যান বি রাখতেই হয়। তবে চেষ্টা করি নিজের মত এমন ভাবে বলতে যাতে না ভাবে আমি ওর উপর চাপিয়ে দিচ্ছি। কারণ কেউ নিজে থেকে গ্রহণ না করলে চাপিয়ে দেওয়া যুক্তি কখনও কোন কাজে আসে না।  

 

দুবনা, ০৪ জুলাই ২০২২

বিঃ দ্রঃ লেখাটি ০৫ জুলাই ২০২২ ভালোভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।

https://bhalobhasa.com/russia-through-the-eyes-of-bijan-saha-the-cosmology-research-scientist-part-10/




 

সিনিয়র সিটিজেন

কয়েক দিন আগে মস্কোয় রিলেটিভিটির উপর এক কনফারেন্সে ইন্ডিয়া থেকে বেশ কয়েক জন বিজ্ঞানী এসেছিলেন। বিভূর সাথে আমার আলাপ দুই বছর আগে গত কনফারেন্সে...